Thursday, September 1, 2016

ইচ্ছা আর প্রচেষ্টার যোগসূত্রে আসবে সাফল্য

সময়টা ২০১১ সালের আগস্ট কিংবা  সেপ্টেম্বর এর দিকে হবে ।  কলেজে ভর্তি হয়েছি খুব বেশিদিন হয় নি । একদিন ক্লাসে ম্যাথ স্যার এসে একটা গ্রাফ আঁকলেন । গ্রাফের দ্বারা তিনি বুঝিয়ে দিলেন কিভাবে কলেজের ২ টা বছর অতি দ্রুত অতিবাহিত হয়ে যাবে । তারপর তিনি যেই ব্যাপারটা শিখালেন আমাদের আমার মনে হলো আমার জীবনের শ্রেষ্ট সূত্র শিখেছি সেদিন । তিনি বোর্ডে নিচের তিনটি লাইন লিখলেন -

ইচ্ছা(২০)+ প্রচেষ্টা(৮০) = সাফল্য কতো হবে ?
ইচ্ছা(৮০) + প্রচেষ্টা(২০) =সাফল্য কতো হবে ?
ইচ্ছা(৫০) + প্রচেষ্টা(৫০) =সাফল্য কতো হবে ?

অনেক ভুল উত্তরের মধ্যে সেদিন আমিও ভুল বলেছিলাম । এটা সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারনা ছিলো না । স্যার যখন ব্যাপারটা বিশ্লেষন করে বললেন  তখন মনে হলো আমি আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা শিখেছি আজকে ।

স্যার ব্যাখ্যা করলেন ব্যাপারটা -

প্রথম সূত্রটির উত্তর হবে সাফল্য= ০ !
কোনো একটা কাজ করার জন্য সেই কাজের প্রতি তোমার নিজের ইচ্ছা নাই অথবা খুব কম কিন্তু তোমার প্রচেষ্টা অনেক সেক্ষেত্রে তোমার সাফল্য হবে শুন্য (০) ।

দ্বিতীয় সূত্রটির উত্তর হবে সাফল্য =০ !
কারন , কোনো কাজ করার প্রতি তোমার তীব্র ইচ্ছা আছে কিন্তু সেই ইচ্ছার প্রতিফলন তুমি নিজের প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘটাতে পারো নাই । তাই সেখানেও তোমার সাফল্য হবে শুন্য (0) ।

ধরুন ,আপনি এখন  HSC পরিক্ষা দিয়ে বুয়েটে ভর্তি পরিক্ষা দিবেন ।  আপনার ছোট বেলা থেকে ভীষন ইচ্ছা বুয়েটে পড়বেন । কিন্তু আপনি কখনোই সেই অনুযায়ী আপনার মেধাকে বিকশিত করেন নি এবং আপনার কোনো প্রচেষ্টা নেই ।  তাহলে পারবেন কি আপনার লক্ষে পৌঁছাতে ? পারবেন না । চ্যালেঞ্জ দিয়ে যে কেউ বলে দিতে পারেন আপনি সেখানে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না , কারন আপনার তো কোনো প্রচেষ্টাই নেই ।

এবার আসি তৃতীয় সূত্রে , এক্ষেত্রে সাফল্য হবে =১০০ ভাগ ।
কারন আপনি আপনার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চেষ্টা করেছেন । কোনোটাতেই কমতি ছিলো না কখনো ।  আপানার প্রচন্ড ইচ্ছা ছিলো বুয়েটে পড়ার এবং আপনি সেই অনুযায়ী আপনার প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রেখেছেন ।  আপনার সাফল্য আসবেই ।

হয়তো আমি আমার সেই স্যারের মতো ওতোটা ভালো করে আপনাদের বুঝাতে পারিনি । কিন্তু স্যারের কথা শুনার পর আমি এটা বিশ্বাস করি করি যে এই সত্য কথাগুলোর উপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর সকল মানুষের জীবনযাত্রা ।  আপনি পিঁপড়ার গতিপথে বারবার বাধা দিচ্ছেন , তাই বলে কিন্তু পিঁপড়া যাওয়া-আসা বন্ধ করে দেয় নাই ।  আপনি হয়ত লক্ষ্য করে দেখবেন বারবার পিঁপড়ার গতপথে বাধা দেবার পরেও সে তার নির্দিষ্ট গতিপথে যাওয়ার চেষ্টা করে ।  এখানেই আপনি তার ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টার  প্রমান পেলেন ।  ঠিক তেমনটা মানুষের ক্ষেত্রেও । আমি কোন কাজে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি , তাই বলে কি আমি থেমে যাবো ? আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর গতিপথ পরিবর্তন
করবো  ? উত্তর হচ্ছে না । আপনি সর্বোচ্চ কতবার ব্যর্থ হবেন ?  একবার না একবার সাফল্য তো আমার কাছে ধরা দিবেই ।

একটা বাস্তব উদাহরন দিতে চাই এবার , আপনারা কেউ কি বলতে পারবেন কেন দেশে এতো দুর্নীতি ? কেন এতো হত্যা,খুন, মারামারি ? আমার কথাটা কতুটুকু সত্য সেটা জানিনা তাও আমি বলবো এসব কর্মকান্ড যারা ঘটায় তারা অধিকাংশই একসময় ভালো মানুষ ছিলো ! তাদের একটা লক্ষ্য ছিলো । লক্ষ্যে পৌছানোর প্রচন্ড ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু !! কিন্তু হয়তো তাদের প্রচেষ্টা ছিলো না ভালো লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য । তাই তারা তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে অসদুপায়ে তাদের লক্ষ্য পৌছানোর চেষ্টায় আছে । কারণ এই পথে ইচ্ছা বেশি থাকলেই হয় প্রচেষ্টা লাগে না বেশি । কারণ এই পথে আমাদের গ্রহণ করার জন্য বসে আছে হাজারো কুচক্রকারী  ।


যখন ক্লাস নাইনে ছিলাম তখন পড়েছি বাংলাদেশে সরকারী কর্মচারীদের ঘুষ খাওয়ার মুল কারণ হলো ধনী হওয়া এবং অধিক সম্পদের মালিক হওয়ার তীব্র ইচ্ছা তাদের মধ্যে । তাই তারা আজ ঘুষ খায় । অসদুপায় অবলম্বন করে । কিন্তু আমরা কি পারিনা অসদুপায় অবলম্বন না করে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে  ??

অবশ্যই পারি :-) প্রতিটি কাজে আমাদের শুধুমাত্র ইচ্ছা আর প্রচেষ্টার যোগসূত্র ঘটাতে হবে সঠিকভাবে ।